রংপুরের সাবেক মেয়র সরফুদ্দীন আহমেদ (ঝন্টু) চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বেলা সাড়ে তিনটায় মৃত্যুর কাছে হার মানলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু। (ইন্নালিল্লাহী ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)।

তিনি রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ছিলেন। তার মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।তিনি স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে সন্তানসহ অসংখ্যগুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি রোববার ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার পর তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকায় নেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি একাধারে উপজেলা, পৌরসভা, সংসদ সদস্য ও মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। বণার্ঢ্য জীবনের অধিকারী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু ১৯৫২ সালের ৭ জুলাই রংপুরের ইঞ্জিনিয়ার পাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি রংপুর জিলা স্কুল থেকে দুবিষয়ের ওপর স্টার মার্ক নিয়ে মেট্রিক প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন এবং প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি রংপুর সরকারি কলেজ থেকে বিকম পাস করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করেন। সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু ৮০ দশকের শুরু থেকে রাজনীতিতে জড়িত। তার দীর্ঘ রাজনীতি জীবনে তিনি ধীরে ধীরে মাঠ পর্যায় থেকে ১৯৮৭ সালে প্রথম উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত রংপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন ১৯৯৬ সালে তিনি এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে রংপুরের গঙ্গাচড়া আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১২ সালে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে দেশের দশম সিটি করপোরেশনের রংপুরের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টায় তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। পরে হেলিকপ্টার যোগে দুপুর ১টায় আনা হবে তার প্রিয় জন্মস্থান রংপুরে। তার লাশ রাখা হবে নিজ বাড়িতে।

পরে রংপুর পুলিশ লাইন মাঠে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বাদ আছর। এর পরে তাকে সমাহিত করা হবে নুরপুর কবরস্থানে তাঁব বাবার কবরের পাশে। এদিকে রংপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোকিত মানুষ হিসেবে পরিচিত সাবেক এই মেয়রের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। অনেকেই ঝন্টুর মৃত্যুর সংবাদ শুনে ছুটে যান তার বাসভবনে।

এরই মধ্যে ঝন্টুর মৃত্যুতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, রংপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাফিয়া খানম, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা যুব মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিমা জামান ববি, জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম প্রামানিক, মহানগর বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান সামু, জেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল আলম নাজু, রংপুর জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি ও জাতীয় শ্রমিকলীগ রংপুর মহানগর শাখার সদস্য সচিব এম এ মজিদ, রংপুর জেলা ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা মালিক-শ্রমিক সমবায় সমিতির সভাপতি মহিউল আহমেদ মহি, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল কবির সুমন, বাংলাদেশ ইবতেদায়ী মাদরাস শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি মাও:নুরুল আবছার দুলাল, কামারপাড়া অগ্রণী সংঘের সভাপতি সৈয়দ সাইফুল ইসলাম, সেক্রেটারি মমিনুল ইসলাম রিপন, রংপুরের তরুণ সংগঠক ও সমাজকর্মী তানবীর হোসেন আশরাফী, ৩২ নং ওয়ার্ড সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আশরাফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হারুন উর রশিদ সোহেলসহ রংপুরের বিভিন্ন স্তরের সাধারণ মানুষসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.